ড. মোঃ এনায়েত হোসেন | সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ-পুবাইল অঞ্চল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দখল মুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা তৎকালীন ঢাকা জেলার ঢাকা উত্তর মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা ছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ঢাকার অতিনিকটে অবস্থিত হওয়ায় নৌযোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চলের সাথে রেল যোগাযোগের সেতুবন্ধন ছিল এই কালীগঞ্জ। ঢাকা সেনানিবাস থেকে নরসিংদী, ভৈরব,কুমিল্লা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,আখাউড়া,সিলেট ও চট্টগ্রামের সাথে রেল পথে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী টঙ্গী,পুবাইল,আড়িখোলা-ঘোড়াশাল রেল রুট ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম ও জনশক্তি পরিবহনে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে কালীগঞ্জ ৩ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। মেজর কে.এ. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং ক্যাপ্টেন এ. এন. এ. নুরুজ্জামান(সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার সংগ্রামে কালীগঞ্জের মুক্তিকামী মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালীগঞ্জ-পুবাইল অঞ্চলের মানুষের এ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অনেক বিষয়ই এখনো ইতিহাসের পাতায় সঠিকভাবে সন্নিবেশিত হয়নি। এই প্রবন্ধে কালীগঞ্জ-পুবাইল অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম এবং মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে এ অঞ্চল মুক্ত হবার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ আলোচনা করা হবে। এ প্রয়াসের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস রচনার একটি ভিত্তি রচিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কালীগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাকর্মী,ছাত্র, শিক্ষক,কৃষক,শ্রমিক, স্বাধীনতাকামী সৈনিকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা,মেঘালয় রাজ্যের তুরা সহ বিভিন্ন শহরে গমন করে। সেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফিরে এসে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা দেশীয় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। মুক্তিযুদ্ধকালীন কালীগঞ্জ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। কালীগঞ্জকে পাকবাহিনীর দখলমুক্ত করতে যে সব মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম,এ,আজিজ(সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান), কমান্ডার ফরহাদ, নেভাল সিরাজ,আলী হোসেন,আনোয়ার হোসেন,নজরুল ইসলাম, বদরুুজ্জামান(খসরু),ফেরদৌস, আখতারুজ্জামান (সাবেক ডাকসু ভিপি),সিরাজুল ইসলাম, সিরাজউদ্দিন, মোঃ মোজাফফর হোসেন(শহীদ), মোশাররফ বিএসসি,তমিজউদ্দিন আহমদ,আখতারুজ্জামান মোল্লা, কে.বি.এম.মফিজুর রহমান,মাজহারুল ইসলাম,গ্রুপ কমান্ডার মোঃ তোতা মিয়া,সেলায়মান,ল্ইুস গমেজ,কাজী শহিদুল্লাহ,বীরেন্দ্র, পরিমল, কমান্ডার ওসমান(প্রফেসর), মুক্তার হোসেন (শহীদ), আবুল কাশেম খান মহন,সৈয়দ বেলাল হোসেন, হুমায়ুন মাস্টার,আব্দুল বাতেন, মজিদ, মঞ্জু খন্দকার,এ.টি ফজলু, হাসমত প্রমুখ। এ ছাড়াও কালীগঞ্জের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
কালীগঞ্জকে পাকিস্তানী বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত করতে কালীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা যে সব যুদ্ধ পরিচালনা করে, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিম্নে উল্লেখ করা হলো ঃ
কালীগঞ্জ থানা আক্রমণ ঃ ১৯৭১ খিস্টাব্দের আগস্ট মাসে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম.এ আজিজের নেতৃত্বে ৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কালীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত হয়। গ্রুপ কমান্ডার দুর্বাটির মোঃ তোতা মিয়ার নেতৃত্বে বাবুল, কাদের প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা কালীগঞ্জ থানা আক্রমণের পরিকল্পনা করে। থানার মধ্যে থাকা একটি বটগাছে মুক্তিযোদ্ধারা বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর কয়েকদিন পর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন এবং ফেরদৌসের নেতৃত্বে কালীগঞ্জ থানা আক্রমণ করে দখল করে নেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধারা কালীগঞ্জ থানা দখল করে নিলে পাকবাহিনী পিছু হটে ভাদার্ত্তি অয়াপদা (অটার এন্ড পাওয়ার ডেভালপমেন্ট অথিউরিটি) আর্মি ক্যাম্পে চলে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে পাকবাহিনী ভাদার্ত্তি ক্যাম্প ছেড়ে পুবাইলের দিকে অগ্রসর হয়।
খলাপাড়া ন্যাশনাল জুট মিল যুদ্ধ ঃ খলাপাড়া ন্যাশনাল জুট মিল কালীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিঃমিঃ উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এই মিলটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি। এই মিলের পাশের গ্রাম বাশাইর-জামালপুরে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১ ডিসেম্বর পাকিস্তানী আর্মির সাথে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা কমানডার এম.এ. আজিজ এবং কমান্ডার ফরহাদ। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী পিছু হটে খলাপাড়া ন্যাশনাল জুট মিলে ফিরে আসে। তারা মিলে প্রবেশ করে আনুমানিক ১৪০ জন শ্রমিক-অফিসারকে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ডকে স্মরণ করে কালীগঞ্জে প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর গণহত্যা দিবস পালন করা হয়।
ইশ্বরপুর যুদ্ধ ঃ ন্যাশনাল জুট মিল হত্যকান্ডের কয়েকদিন পর বাশাইর-জামালপুরে পাকিস্তানী বাহিনী আবারও আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়। এক পর্যায় পাকবাহিনীর একটি দল পথ ভুলে ইশ্বরপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন পাকবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে একজন পাকিস্তানী আর্মি নিহত হয়। পাকবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে মোজাফফর হোসেন শহীদ হয়। পথহারা পলায়নপর পাকবাহিনীর সদস্যদেরকে মুক্তিযোদ্ধারা নির্মমভাবে হত্যা করে। এই যুদ্ধে এম.এ.আজিজ, ফরহাদ, এনামুল,জামালউদ্দিন,রফিক, হিরন প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।
আড়িখোলা রেল স্টেশন যুদ্ধ ঃ কালীগঞ্জ থানা সদর থেকে প্রায় ২ কিঃ মিঃ দূরত্বে আড়িখোলা রেল স্টেশন অবস্থিত। এখানে পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী ক্যাম্প ছিল। কৌশলগত দিক দিয়ে অড়িখোলা রেল স্টেশন দখল করা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঢাকা, টঙ্গী,ভৈরব,আখাউড়া,কুমিল্লা,সিলেট, চট্টগ্রামের সাথে রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সচল রাখা পাক আর্মির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন করে দিয়ে পাক আর্মির শক্তি খর্ব করা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান লক্ষ্য। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন, গ্রুপ কমান্ডার আঃ বাতেন এবং তমিজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল রাত তিনটার সময় আড়িখোলা রেল স্টেশনে হামলা করে। সকালে পাক আর্মি হেলিকপ্টার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা চালালে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রথম আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা আড়িখোলা রেল স্টেশন ক্যাম্প দখল করতে না পারলেও ডিসেম্বরের মধ্যভাগে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাক বাহিনী ক্যাম্প ছেড়ে পুবাইলের দিকে চলে গেলে মুক্তিযোদ্ধারা আড়িখোলা রেল স্টেশন ক্যাম্প দখল করে নেয়।
সোমবাজার খালের মুখ যুদ্ধ ঃ সোমবাজার কালীগঞ্জ থানা সদর থেকে আনুমানিক ৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ভাদার্ত্তি গ্রামে অয়াপদা অফিসে পাক আর্মি ক্যাম্প ছিল। পাক আর্মির ৫জন সদস্য ২জন এ দেশীয় সহযোগী সহ উত্তর সোম দারোগা বাড়ি কোন কাজে আসলে মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন এবং আনোয়ার হোসেন তাদের উপর গুলি চালালে যুদ্ধ বেধে যায়। ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত আর্মি এসে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা করে। এখানে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। পাকবাহিনী হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ করে যার অধিকাংশ খালের পানিতে পড়ে। এই যুদ্ধে পাকবাহিনীর বিমান হামলায় ল্যাট্রিনের ছাদ ধসে রাথুরার সিরাজ আহত হয় এবং যুদ্ধের ২য দিনে মুক্তার শহীদ হয়। সে দিনটি ছিল ১৮ নভেম্বর। ঈদের আগের দিন। শহীদ মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে এই যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছিল। মুক্তার শহীদ হলে ফেরদৌস যুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। এই যুদ্ধে পাকবাহিনী উত্তর সোম খালের পাড় থেকে দক্ষিণ সোম গ্রামে কামানের গোলা নিক্ষেপ করে। খাল ভর্তি পানি থাকায় পাক আর্মি দক্ষিণ সোম যেতে সক্ষম হয়নি। দক্ষিণ সোম খালের পাড়ে একটি চিনির মিল ছিল। চিনির মিলের উঁচু প্রাচীরে কামানের গোলা বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় দক্ষিণ সোম গ্রামটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।
পূবাইল যুদ্ধ ঃ কালীগঞ্জ থানা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিঃ মিঃ পশ্চিমে এবং টঙ্গী থেকে প্রায় ১০ কিঃ মিঃ পূর্ব দিকে বালু নদীর পাড়ে পূবাইলের অবস্থান। রেল যোগাযোগ ও নৌযোগাযোগের সুবিধার কারণে পূবাইল ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে। অবস্থানগত দিক থেকে পুবাইল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। রেল যোগাযোগ ও নৌযোগাযোগের ক্ষেত্রে পূবাইলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পূবাইল চৌধুরী বাড়িতে আর্মি ক্যাম্প ছিল। পূর্ব দিক থেকে মুক্তিবাহিনীর প্রচন্ড আক্রমণে পাকিস্তানী আর্মি পিছু হটে পূবাইল এসে জড়ো হয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন একং বদরুজ্জামান খসরুর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর দুটি গ্রুপ বোয়ালী আমিন চেয়ারম্যানের বাড়িতে মিলিত হয়ে পূবাইল যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। ১৪ ডিসেম্বর,১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৫ ডিসেম্বর,দুপুর ১ঃ৩০ ঘটিকা পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে পূবাইলে অবস্থিত পাকিস্তানী বাহিনীর উপর হামলা করে। বালু নদীর উপর পূবাইল ব্রীজের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পার্শ্বে পাকিস্তানী আর্মির ব্যাংকার ছিল। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী নলছাটা ব্রীজের উপর থেকে পুবাইল বালু নদীর উপর ব্রীজে পাক বাহিনীর অবস্থানে শেল নিক্ষেপ করে। এই যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর দুইজন শিখ সেনা নিহত হয়। বাগদী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক তুরাব আলীর নেতৃত্বে দক্ষিণ দিক থেকে পূবাইল যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করে।
পূবাইলে যৌথবাহিনীর অভিযান ঃ ২১ নভেম্বর,১৯৭১ খিস্টাব্দ প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের যৌথ সিদ্ধান্তে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যৌথবাহিনী ২২ নভেম্বর অভিযান শুরু করে। যৌথবাহিনী বাংলাদেশকে চারটি যুদ্ধাঞ্চলে বিভক্ত করে ৪টি সামরিক অঞ্চলের অধীনে আক্রমণের পরিকল্পনা করে। এই চারটি অঞ্চল যথাক্রমে ১. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল(রাজশাহী বিভাগ) ২. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল(খুলনা-বরিশাল বিভাগ) ৩. মধ্যাঞ্চল(ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ অঞ্চল) এবং ৪. পূর্বাঞ্চল ( চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগ)।
ঢাকা অভিমুখে মূল অভিযান পরিচালিত হয় মুক্তিবাহিনীর এস.ফোর্স, ৩ নম্বর সেক্টর এবং মিত্রবাহিনীর আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ভৈরব অক্ষের অগ্রাভিযানের মাধ্যমে। ৩-৫ ডিসেম্বর পরিচালিত এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আখাউড়া মুক্ত হয়। ৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার পর এস.ফোর্সের ১১ ইস্ট বেঙ্গল এবং মিত্রবাহিনী আশুগঞ্জে আক্রমণ চালায়। ১০ ডিসেম্বর আশুগঞ্জ মুক্ত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকবাহিনীকে ভৈরবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
অন্য দিকে যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার যোগে কিছু সেনা মেঘনা পার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নরসিংদীর রায়পুরায় প্রেরণ করে। ১১-১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনী দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল সহ এস.ফোর্স এবং ৩ নম্বর সেক্টরের প্রায় সব সৈন্য মেঘনা পার হয়ে আসে। নরসিংদী থেকে যৌথবাহিনী দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। একটি বহর ঘোড়াশাল-পূবাইল-টঙ্গী রোড ধরে ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। ১৪-১৫ ডিসেম্বর পুবাইল রেল ব্রীজে যৌথবাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। মিত্রবাহিনী এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণে পাকবাহিনী পরাজিত হয়ে ঢাকার দিকে পিছু হটে যায়। এভাবে ১৫ ডিসেম্বর ১.৩০ ঘটিকার মধ্যে কালীগঞ্জ-পূবাইল মুক্ত হয়।
লেখকঃ ড. মোঃ এনায়েত হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, শিক্ষাবিদ,গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।
Posted ১২:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।